বাকৃবিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালিত

বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস- ২০২৬ পালন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৮.০০টায় ভাষা শহীদদের স্মরণে ঈশা খাঁ হল সংলগ্ন প্রথম শহীদ মিনারে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির ব্যবস্থাপনায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। দিবসটি পালন উপলক্ষে সকাল ৮:৩০ মিনিটে বৈশাখী চত্ত্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত প্রভাত ফেরিতে নগ্নপদে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা,কর্মচারী এবং বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন। সকাল ৯.০০ মিনিটে প্রভাত ফেরি শেষে শহীদদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাকৃবি'র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।পরবর্তীতে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি,বাকৃবি প্রক্টোরিয়াল টিম,বাকৃবি শিক্ষক সমিতি, সোনালি দল, প্রভোস্ট কাউন্সিল, মহিলা সংঘ,বাকৃবি অফিসার পরিষদ, বাকৃবি শাখা ছাত্রদল,সকল হল, কর্মচারী সংগঠনসমুহ, অন্যান্য স্কুল, কলেজ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, অনুমোদিত অন্যান্য সংগঠন শহীদদের উদ্দেশ্যে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেমেয়েরা তৎকালীন শাসক গোষ্ঠির অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল। পূর্ব পাকিস্তানের বৃহত্তর জনসংখ্যা বাংলা ভাষাভাষী হওয়া সত্ত্বেও রাস্ট্র ভাষা হিসেবে উর্দুকে বাঙ্গালী জাতির উপরে চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে
সেই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দেশের দামাল ছাত্রসমাজ গর্জে উঠেছিল। যার ফলশ্রুতিতে সেদিন ঘাতকের বুলেটে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার এবং অনেক নাম না জানা তরুণ এবং সেটাই ছিল আমাদের ভাষা আন্দোলনের রক্তস্নাত গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সেই হত্যার মধ্য দিয়ে সেদিন তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানি জান্তারা বুঝেছিলো যে এই জাতি, এই বাংলা ভাষাভাষী মানুষ কখনো তাদের মায়ের ভাষা উর্দু হতে দেবে না। তিনি বলেন পৃথিবীর মধ্যে আমরাই একমাত্র দেশ যারা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছি এবং একপর্যায়ে এই ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও পৃথিবীর বুকে স্থান করে নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন বর্তমানে ২০২৬ সনের ১২ ফেব্রুয়ারিতে একটি অত্যন্ত সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটা সরকার অতি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছে, আমার বিশ্বাস এই সরকার বাংলাকে আমাদের প্রতিটি স্তরে,বাংলার প্রচলনে মনোযোগি থাকবে।যারা বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। আর কোনো রকম শাসকগোষ্ঠী যেন আমাদের বাংলাদেশের দিকে শকুনের দৃষ্টি না দিতে পারে এবং আমাদের ভাষাকে কেড়ে নিতে না পারে, আমাদের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে অঙ্গুলি দেখাতে না পারে—সেই আহ্বান জানান। বক্তব্য শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এছাড়াও ৫২সনের শহীদগণের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও দুপুর ১.৩০টায় সকল মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়ে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়।