আজ সোমবার (১১ মে ২০২৬) দুপুর ২.০০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে এই প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি প্রভোস্ট কাউন্সিলের কনভেনার (ইনচার্জ) প্রফেসর ড. মো: মোখলেছুর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো: হেলাল উদ্দীন এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির। এছাড়াও বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সাংগঠনিক কমিটির সদস্য-সচিব কৃষিবিদ মো: আসাদুল হক সজল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক মো: আতিকুর রহমান, এছাড়াও বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের মুল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বিজয়ী এবং বিজিত সকলকেই ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।যারা অংশগ্রহণ করে,খেলা পরিচালনা করে,কায়িক ও মানসিকভাবে এখানে শ্রম দিয়ে এই পুরো টুর্নামেন্টটাকে উপভোগ্য করেছেন, সার্থক করেছেন তাদেরকেও অভিনন্দন জানান। তিনি আরও বলেন যে পড়াশোনার পাশাপাশি বাকৃবির ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা, নৈতিক চরিত্র গঠন এবং বিভিন্ন সহ-শিক্ষা কার্যক্রমে তাদের সময় ব্যয় করে। যেটা ব্যবহারিক ক্লাসের পরে খুবই কঠিন হয়, তবুও তারা চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াঙ্গনকে মুখরিত রাখতে এই ধরনের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ক্রীড়ার মাধ্যমে সুন্দর বন্ধুত্ব হয় এবং বর্তমান সরকার ক্রীড়া প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আজ থেকে ৬৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি এবং কৃষকের পাশে থেকে দেশে এবং বিদেশে এদেশের মানুষের খাদ্য এবং পুষ্টির নিরাপত্তা যুগিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার উপর অর্পিত এই দায়িত্ব সারাজীবন করে যাবে।যে সমস্ত সংগঠনের মাধ্যমে একটি সুন্দর সফল সমাপ্তির মাধ্যমে আজকে যে প্রতিযোগিতা শেষ হচ্ছে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষত শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তাবৃন্দ, রেফারীবৃন্দ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত খেলোয়ারবৃন্দ, তাদের প্রশিক্ষকবৃন্দ,ম্যানেজারবৃন্দ, তাদের টিম মেম্বারবৃন্দ, শান্তি-শৃঙ্খলার সাথে যারা নিয়োজিত আছেন তারা এবং সংশ্লিষ্ট আমাদের এই ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে ভাইস-চ্যান্সেলর শুভেচ্ছা জানান।
উল্লেখ্য যে, দেশের ৩৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে ৫দিন ধরে সংঘটিত এই প্রতিযোগিতায় টেবিল টেনিস(ছাত্র) ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্সআপ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। টেবিল টেনিস(ছাত্রী) ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্সআপ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ব্যাডমিন্টন(ছাত্র) ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্সআপ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ব্যাডমিন্টন(ছাত্রী) ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রানার্স আপ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়বৃন্দ, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
