বাকৃবিতে পশুপালন অনুষদের পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ পালিত


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে সকাল ১১টা এ উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য
ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান । অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান।
ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক, পোল্ট্রি কনসালট্যান্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল হক এবং ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফয়জুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ।
পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রধান ও ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সহসভাপতি প্রফেসর ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. বাপন দে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও ডিম আজ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও অপরিহার্য পুষ্টিকর খাদ্যপণ্য হয়ে উঠেছে। ডিমের উৎপাদন আরো বাড়াতে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি বলেন আমাদের এখন উদ্যোক্তা তৈরি করতে প্রচারনা চালাতে হবে। বর্তমান সরকারও চাচ্ছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হোক। ডিম দিবসে আমার আহবান, আমাদের গ্রাজুয়েটরা ডিম কেন্দ্রিক উদ্যোক্তা হতে পারে। এতে করে তারা নিজেরা কর্মসংস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। এর ফলে চাকরি নয়, চাকরিদাতারা আপনাদের খুঁজবে।
পশুপালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা প্রায়ই একটি সাধারণ চিত্র দেখতে পাই, যা কিছুটা উদ্বেগের। আমাদের অনুষদ থেকে পাশ করা অনেক গ্রাজুয়েট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যুক্ত হওয়ার পর, নিজেকে পুরোপুরি সমৃদ্ধ বা দক্ষ করে তোলার আগেই হুট করে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে আসেন। মনে রাখবেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর সেখানে নিজের শিকড় গাড়তে সময় লাগে, কাজ শিখতে হয়। পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের আগেই প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করলে যেমন নিজের সঠিক বিকাশ ঘটে না, তেমনি আমাদের এই অনুষদ এবং পুরো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের পশুপালন খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কিন্তু এই খাতে রাতারাতি সফল হওয়া যায় না। আমি আপনাদের জোর দিয়ে বলতে চাই—যারা ধৈর্য ধরে লেগে থাকে, তারাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. সিরাজুল হক বলেন আপনারা যদি কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা এবং ধৈর্যের পরিচয় দেন, তবে আপনাদের নিজেদের আর চাকরির পেছনে ঘুরতে হবে না; বরং চাকরি আপনাদের পেছনে ঘুরবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. মোছাব্বির আহমেদ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রফেসর ড. আশরাফ আলী।
দিবসটি পালনে এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রোটিন যা শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’ (Protein that Powers and Protects)।
উল্লেখ্য দিবসটি পালন উপলক্ষে পশু পালন অনুষদীয় ভবন থেকে সকাল ১০:০০মি. এক বর্ণাঢ্য র্যালি যাত্রা শুরু করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনের সামনে এসে শেষ হয়।
এছাড়া কাজী ফার্মের সৌজন্যে এ উপলক্ষে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে ৪,০০০টি ডিম বিতরণ করা হয়েছে।