পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ‘৩০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ’ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরনী অনুষ্ঠিত



বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(বাকৃবি) এর গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (জিটিআই) ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ৩০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বুধবার দুপুর ১২:৩০টায় জিটিআই শ্রেণীকক্ষে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সিনিয়র সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বাকৃবি ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম সরদার উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি অনুষদের ডিন ও ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. জি. এম. মুজিবর রহমান ও রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো: হেলাল উদ্দীন।জিটিআই-এর পরিচালক প্রফেসর ড. বেনতুল মাওয়া এর সভাপতিত্বে এবং এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ মোঃ সবুজ রহমান এর সঞ্চালনায় শুরুতে প্রশিক্ষনার্থীদের পক্ষ থেকে দুইজন কর্মকর্তা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন এবং প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়াবলী নিয়ে সংক্ষিপ্ত ধারণা প্রদান করেন সিনিয়র কোর্স কো-অর্ডিনেটর প্রফেসর এ.কে. এম. রফিকুল ইসলাম। প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: রফিকুল ইসলাম সরদার প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী সকল কর্মকর্তাদেরকে অভিনন্দন জানান। তিনি এই প্রশিক্ষণের মডিউলে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয়াবলীর যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলেন যে আশাকরি আপনাদের একটা চমৎকার প্রশিক্ষণ অর্জন হয়েছে। তিনি প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট হিসেবে জিটিআই এর ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন এবং একইসাথে এই ইন্সটিটিউটকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি রিসোর্স পারসনদের প্রশংসা করে বলেন যে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাবৃন্দ এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা তাদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন যে বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং এই প্রথম একটি সরকার শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশের মোট জিডিপির পাঁচ ভাগ বরাদ্দের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইতিমধ্যেই জিডিপির দুইভাগ বরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে বলেন যে আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের পর্যায়ে গড়ে তোলা এবং সেলক্ষ্যে ইউজিসি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দক্ষ জনবল তৈরীর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উপাদান ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী উল্লেখ করে তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সন্মান বজায় রেখে ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর মাঝে সেতুবন্ধন রচিত করে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানান। তিনি প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে এই প্রশিক্ষণ কাজে আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় তিনি বলেন,"আপনারা এই প্রশিক্ষণ থেকে যে সমস্ত বিষয়গুলো শিখেছেন তা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।" তিনি সকল কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মদক্ষতা এমনভাবে উন্নয়নের পরামর্শ দেন যেন ভবিষ্যতে তাদের কর্মদক্ষতা ও সুনামের কারণ অন্যান্য কর্মস্থানে তাদের উপযোগীতা তৈরী হয়। তিনি সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তির জন্য জিটিআই কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।পরে তিনি সকল প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদ ও ক্রেষ্ট বিতরন করেন এবং তাদের মাঝে গ্রুপ ও ব্যাক্তিগত ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ কোর্সে বাংলাদেশের ২৫টি বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন । উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত আমন্ত্রিত শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।